Pushing Limits

where magic happens

 

গত কিছুদিনে অনেকগুলা জিনিস শিখলাম। আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা একটা বৃত্তের ভেতর। অনেকটা আমের পোকার মত। আমের পোকা থাকে আমের ভেতর। তার কাছে পৃথিবী মানে একটা আম। আর কিছু না। সে যদি কথা বলতে পারতো। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করতেন পুরান ঢাকার বিরিয়ানী ক্যামন, তার কোন আইডিয়া নাই। কারন সে আম খায়, বিরিয়ানী না।

আমি যদি একজন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপার হই, তাহলে আমার জগত ওটা নিয়েই। আমি আসলেই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপার। অ্যাপস ডেভেলপিং এর আগে আমি পিএইচপিতে কাজ করতাম। ইনফ্যাক্ট আমার প্রথম জব ইন্টারভিউ ছিলো পিএইচপি ডেভ হিসেবে। আমার আম হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড। তার আগে ছিলো পিএইচপি।

প্রতিদিন যদি আমি একটু একটু করে বাড়ি এখন হয়ত আমার বৃত্ত থেকে বের হতে পারবো। আমার এই বাড়াতে সাহায্য করবে আমার পাশের মানুষেরা। তাই আমি কার সাথে চলি তারা আমার সাথে কি করে সেটা গুরুত্বপুর্ন। এর মানে এই না আসল বন্ধুদের ফেলে দেয়া। বুইজ্জ কিন্তুমাম্মা। বৃত্তের পরিধিটা হচ্ছে আমার লিমিট। আমি যত নিজেকে বাড়াবো তত আমি লিমিট পুশ করবো। এক সময় আমি নতুন কিছু পাবো।

অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহাগ ভাই এর একটা কথা শুনেছিলাম, আমাদের ব্রেইন প্রোগ্রাম করা হয় যেভাবে আমরা চলি সেভাবে। যেমন, চোখের সামনে হাত আসলে অটো চোখের পাতা অফ হয়ে যায়। আমাদের ব্রেইন এভাবেই প্রোগ্রাম করা। যদিও এমন হয় যদি আমরা জানি হাত চোখে লাগবেনা, তাও দেখবেন চোখ অফ হয়ে যাচ্ছে। তার মানে আমাদের অবচেতন ব্রেইন ওভাবেই প্রোগ্রাম করা। তাহলে আমাদের কাজ হচ্ছে এটাকে রি-প্রোগ্রাম করা। সফলতার মূল মন্ত্র হচ্ছে সঠিক পথে পরিশ্রম, নিজের পটেনশিয়াল বুঝে নিজের পছন্দের কাজটা করা। এটা আমরা সবাই জানি। ১২ বছরের একটা ছেলেও জানে। তাহলে আমরা করছিনা কেন? কারন ওইযে চোখের কাছে হাত আসলে চোখ অফ হয়ে যাওয়ার মত আমাদের ব্রেইন এমন ভাবে প্রোগ্রাম করা আমরা সঠিক সময় সঠিক কাজটা করছিনা আসলেমির জন্য। ঠিক এই জায়গায় লিমিট পুশ করে নিজের ব্রেইনটাকে রি-প্রোগ্রাম করতে হবে।

মুহাম্মাদ আলীর দুইটা কথা ভালো লাগে। একটা হচ্ছে, ‘আমি ট্রেইনিং এর প্রতিটা সেকেন্ড ঘৃনা করতাম, কিন্তু আমি নিজেকে বলেছি, এই সময়টা পার হলেই আমি বাকি জীবন চ্যাম্পিয়নের মত বেঁচে থাকবো।’ আসলে হয়েছেও তাই। আরেকটা কথা, ‘যদি কখনো তুমি আমাকে হারাচ্ছো এটা স্বপ্নেও দেখো, তাইলে বরং জেগে উঠো, এবং আমার কাছে ক্ষমা চাও।’ এই হচ্ছে নিজের পটেনশিয়াল এর প্রতি বিশ্বাস। তার মানে নিজের ব্রেইনকে রি-প্রোগ্রাম করতে হবে নিজের পটেনশিয়ালকে বিশ্বাস করেই।

বিল গেটস এর উদাহরন দেয়া আমার কাছে প্রায় সব সময় ফালতু লাগে। তবে একদিন বেচারার কথা শুনে আমি চমকে গেলাম। তারে জিজ্ঞেস করা হইসে, আপ্নার জীবনে অপূর্ন কিছু আছে নাকি? ভদ্রলোক বল্লেন, মার্ক ( আমগো জুকা ) ছেলেটা কি সুন্দর কত ভাষায় কথা বলতে পারে, আমি যদি পারতাম। আমি ভাবতেসি এই হালায় চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাষাবিধরে কিনে ফেলতে পারে, কিন্তু তার চিন্তা হচ্ছে নিজের স্কিল ডেভেলপ করা। নিজের লিমিটকে পুশ করে আরো উপরে নিয়ে যাওয়া।

না, এই কথাগুলার শেষে কোন ঈশপের গপ্পের মত আশার কিছু বা উপদেশ নাই। যার যা বুঝার সে তা বুঝে নিবে।

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...