সফল অ্যাপ ডেভেলমেন্ট এর আল্টিমেট রোডম্যাপ

কিভাবে একটা সফল অ্যাপ উঠে আসে? কেমন হয় একটা সফল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর লাইফ সাইকেল কেমন হয়? কিভাবে উঠে আসে সবার মাঝে একটা অ্যাপ? কেন আমরা হাজার হাজার অ্যাপ বানালেও সেটা সফল হচ্ছেনা? এসব নিয়ে চেষ্টা করেছি উত্তর খোঁজার। খুঁজেছি আল্টিমেট রোডম্যাপ। বেশ কিছু স্ট্যাডি করে আজকের এই লেখা। সামনের লেখায় আরো কিছু রিয়েলিটি নিয়ে আসবো। সেখানে আশা করি আরো ভালো করে ক্লিয়ার হবে।

 

how to build a successful app

how to build a successful app

প্ল্যানঃ

সঠিক অ্যাপ প্লান ঠিক করে নিতে হবে আগে। আমরা কি করি একটা জিনিস ভাবি, সেটা করতে যাই। কিছুটা করার পর আবার এটা বাদ দেই, ওটা রেখে দেই। এভাবে সময় নষ্ট হতে পারে, মাঝে মাঝে অ্যাপ সম্পুর্ন করাও হয়না। তাই সঠিকভাবে প্ল্যান করা উচিত আমি কি অ্যাপ বানাতে যাচ্ছি। কি কি থাকবে, কেন থাকবে এসব প্রথমেই পরিকল্পনা করে নিতে হবে। পরে যাতে চেঞ্জ করতে হলে খুব বেশি প্রব্লেমে না পড়তে হয় সেটাও ভেবে রাখতে হবে।

 

অ্যানালাইসিঃ

প্ল্যান করেই শেষ না। এরপর শুরু করতে হবে অ্যানালাইসিস। মার্কেট অ্যানালাইসি অত্যন্ত জরুরী। আপনি যা বানাচ্ছেন আপনার সেটা খুব পছন্দের কিন্তু মার্কেটে কি আসলেই সেটার চাহিদা আছে? মার্কেটে সেইরকম অ্যাপ যারা বানিয়ে রেখেছে তারা কি আপনার চেয়ে বেটার কিছু বানিয়ে রেখেছে? সেগুলা অবশ্যই অ্যানালাইসিস করতে হবে। গুগল করেন, স্টোরগুলো ঘেটে দেখেন। এমন আরো কি অ্যাপ আছে। সেইসব অ্যাপের কমেন্টগুলো পড়েন। ইউজার কি চাচ্ছে সেটা সেখানেই পাওয়া যাবে ভালো ভাবে।

 

ইউএক্সঃ

ইউ এক্স হচ্ছে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স। এই পার্টের পরেই আপনি ডিজাইনে চলে যাবেন। তবে তার আগে ভালো করে ইউ এক্স চিন্তা করে নিবেন। এটা কেন জরুরী? ধরুন আপনার অ্যাপ অনেক ইউজফুল কিন্তু মোস্ট ইউজফুল জিনিসটাতে যেতে ইউজারকে বেশ বেগ পেতে হয়। ইউজার কিন্তু থাকবেনা, মনে রাখবেন মার্কেটে যে সেইম অ্যাপ এনেছে সে ইউ এক্স চিন্তা করেই এনেছে।

 

ডিজাইনঃ

ডিজাইন খুবই গুরুত্বপুর্ন ব্যপার। আমাদের দেশে আমরা ডিজাইনকে খুব একটা গুরুত্ব দেইনা। কিন্তু একটা কথা আছে আমরা জানি, ‘ আগে দর্শনধারি পরে গুন বিচারী’! আপনার অ্যাপ যদি দেখতে ভালোই না হয় তাহলে প্রথমেই নেগেটিভ ইম্প্রেশন তৈরী হয়ে গেল। যেটা অ্যাপের ফিউচার ও আপনার ফিউচারের জন্যও ভালো নয়। ভালো কালার কম্বিন্যাশন, প্রপার কালার, ফন্ট – এগুলা ব্যবহার না হলে ইন্টারন্যাশনাল মানের অ্যাপ আশা করা বোকামি।

 

ডেভেলপঃ

এই পার্ট সম্পুর্ন প্রোগ্রামার একার উপর নির্ভর করে। প্রপারলি কোড করে বেস্ট পার্ফমেন্স বের করে নিয়ে আসাই তার কাজ। অ্যাপ এর পার্ফমেন্স খারাপ হলে ইউজার সহজেই বিরক্ত হবে। এক্সেপশন হ্যান্ডেলিং , উপযুক্ত ইউজার কমিউনিক্যাশন ভাষা ব্যবহার এগুলো এই পার্ট এর গুরুত্বপুর্ন অংশ।

 

মার্কেটিংঃ

অনেকেই ভাবে, কোড করে অ্যাপ মার্কেটপ্লেস ( যেমনঃ গুগল প্লে স্টোর, অ্যামাজন স্টোর ) এ ছেরে দিলেই কাজ শেষ! কিন্তু আসলে উলটো! তখন কাজ শুরু! আপনি যে অ্যাপ ছেড়েছেন সেটা তো কাক পক্ষিও জানে না! এত ভালো অ্যাপ ডেভেলপ করলে মানুষকে সেটা জানাতে হবেনা? অ্যাপ বানিয়ে ছেড়ে দিলে কিছু ডাউনলোড পেতে পারেন বিভিন্নভাবে ইউজার সার্চে যদি পায়। তবে ভালো অ্যাপ বানিয়ে ভালোভাবে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হলে মার্কেটিং আপনাকে করতে হবে। কিভাবে মার্কেটিং করতে হবে সেটা নিয়ে আরেক দিন বলবো। কোন পয়েন্টে হিট করলে মানুষের কাছে বেশি পৌঁছবাবে সেটা জানানোর চেষ্টা করবো।

 

ইউজার ফিডব্যাক অ্যানালাইসিঃ

মার্কেটিং পর্যন্ত করে আমার ধারনা অন্তত ৬০ ভাগ মানুষ ভাবে কাজ শেষ। কিন্তু শেষ নয়। আপনার ইউজার কি বলছে কি রিভিউ দিচ্ছে সেগুলো পড়ুন, রিপ্লে করুন, সেগুলো অ্যানালাইসিস করুন। বেস্ট পার্ট, ঐসব রিভিউতে আপনার অ্যাপে কি ফিচার থাকা উচিত তা আপনি জেনে যাবেন। আমার অনেক অ্যাপেই আমি ফিচার বাড়িয়েছি ইউজার কথা শুনে। তারা যা চাইবে তাই আপনাকে বলবে। আপনি যদি তা দিতে পারেন, লাখ লাখ ইউজার পাওয়া সময়ের ব্যপার মাত্র।

 

একটা সফল অ্যাপের এই ধাপগুলোর মধ্যে দিয়ে যেতেই হবে। অনেকেই ভাবে ২৫ ডলার দিয়ে একাউন্ট নিলাম, এইচটিএমএল , সিএসএস দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে ছেড়ে দিবো আর টাকা আর টাকা। এভাবে আসলে মার্কেটপ্লেস নষ্ট হয় আর কিছুনা। এমন যদি বানান ইউজার এর ধারনাই হবে অ্যাপ এমন। এরপর এক সময় আপনি ভাব্বেন ভালো অ্যাপ বানানো দরকার, তখনই দেখবেন আপনার কার্বন কপি অনেকেই চলে এসেছে। মার্কেট প্লেস নষ্ট হচ্ছে আরো বেশি।

ভালো থাকবেন। পরবর্তী লেখার জন্য আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানে।

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...

Leave a Reply