ক্যারিয়ার হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কি?
আমাদের কম্পিউটারে আমরা অনেক রকম সফটওয়্যার ব্যবহার করি, যেমন অভ্র, ভিএলসি, স্কাইপ। মোবাইলের জন্য তেমন সফটওয়্যারগুলোকে আমরা মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন বলি।

 

mobile_apps

এটা একটা মজার বিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ কাল, ক্যারিয়ার হিসেবে কি অ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ্লিকেশন কি নেয়া যায়? সেই প্রশ্নের উত্তরে আসছি। তার আগে একটা মজার ব্যপার বলে নেই।
ন্যাশনাল ইনোভেটিভ মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলমেন্ট নামে একটা প্রজেক্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি মিনিস্ট্রি। যেটা বাস্তবায়ন করছে ইথিক্স এডভ্যান্স টেকনোলজি লিমিটেড।
সেই প্রোগ্রাম থেকে মূলত, ডেভেলপার ও ফিউচারের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলমেন্ট ট্রেইনার তৈরী করার প্রক্রিয়া চলছে। বেশ লম্বা এই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ট্রেইনার তৈরীর প্রজেক্টে আমার
ট্রেইন করার সুযোগ হয়েছিলো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। প্রথম দিকের ক্লাসে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখানে কয়জন ফিউচারে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলমেন্ট বা অ্যান্ড্রয়েড
অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলমেন্টকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান? তো, ব্র্যাক ভার্সিটিতে হাত তুলেছিলো ৪০ জনের মধ্যে ছয় জন। আর নর্থসাউথে সাত জন! আমি খুব অবাক হয়েছিলাম! কেননা আমি আরো বেশি
আশা করেছিলাম। ৪০ জনের মধ্যে মিনিমাম ২০ জন!

বাংলাদেশে কম্পিউটার ইভ্যুলুশানের সময় (১৯৯৮ থেকে)   আমরা সবাই ডেক্সটপ কিনতাম তাইনা? পেন্টিয়াম টু/ফোর, ডুয়েল কোর কিংবা কোর টু ডূ ছিলো সবার বাসায়।  তারপর শুরু হল ল্যাপ্টপের আধিক্য। ২০১২ সালে দেখা যায় ট্যাবলেটের সেল ডেক্সটপ কম্পিউটারকে ছাড়িয়ে যায়। আর এখন তো স্মার্টফোনে ছেয়ে গেছে সব। পয়েন্ট ইজ, আমরা দিন দিন ছোট ডিভাইসগুলার দিকে ঝুঁকছি।  আসলে ঝুকবোই না কেন!  ২০১৩ সালের কথা, একদিন ক্লাস এসাইমেন্ট নিতে ভুলে গেছি। এসাইনমেন্ট ছিলো ফোনে। এখন এসাইনমেন্টের জন্য ফ্রন্টপেজ নাই! ফোনের ‘কিংসফট অফিস’টা ব্যবহার করে বানায়ে ফেললাম ফ্রন্টপেজ, প্রিন্ট
করিয়ে এনে জমা দিয়ে দিলাম। কথা হল, আমার যে কাজ আমি ফোনেই করতে পারি তার জন্য অন্য ডিভাইস দরকার কেন। ফোন ছোট, ক্যারি করা যায়। ডেক্সটপ বা ল্যাপ্টপের ক্ষেত্রে তা ঝামেলা বটে! মোবাইলে কি করতে পারি? এই কথার উত্তর আমি বলি কি করতে পারিনা? যা যা করা দরকার সবই তো করতে পারি! তাহলে আমরা বড় ডিভাইসে থাকবো কোন যুক্তিতে? ছোট ডিভাইসের দিকে যাবো, এইটাই স্বাভাবিক।

আচ্ছা। তাহলে আমরা ছোট ডিভাইস পর্যন্ত আসলাম। স্মার্টফোন না হলে যেন আমাদের চলেই না! সবার কাছেই স্মার্টফোন। স্মার্টফোন মানে সেটার সিস্টেম এম্বেডেড না। যেটাতে আলাদা ওএস থাকবে ইন্টারনেটসহ এডভ্যান্স সুবিধাগুলো থাকবে। বাজারে কি কি ওএস( অপারেটিং সিস্টেম) এভেইএভেল আছে? সবাই জানি, অ্যান্ড্রয়েড ওএস, আইওএস, উইন্ডোজ ফোন ওএস এবং অন্যান্য। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কত পার্সেন্ট
কোন কোন ওএস ব্যবহার করে তা দেখে নেইঃ

১)  অ্যান্ড্রয়েড ওএস – ৮১%
২) আইওএস – ১৫%
৩) উইন্ডোজ ফোন ওএস – ৩%
৪) অন্যন্য – ১%

সূত্রঃ স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিক / প্রথম আলো( ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫)

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে আমরা সঠিক পথেই আছি। সারা পৃথিবীতে মোট স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ৮১ ভাগই হচ্ছে  অ্যান্ড্রয়েড ওএস ব্যবহারকারী।

এবার একটা ব্যপার ভাবুন, কাল সকাল থেকে যদি আপনি একটা নতুন বিজনেস শুরু করেন।  আপনি কিছুএকটা সেল করবেন। ধরুন আপনি ফ্ল্যাট সেল করবেন। এখন আপনি কাকে খুঁজবেন? নিশ্চিই যে কিনবে তাকে? এখন আপনি যদি  অ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করেন, আপনি কাকে খুঁজবেন? নিশ্চই যারা স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকশন ব্যবহার করে তাদের?

অ্যান্ড্রয়েড এ্যপ্লিকেশন ডেভেলপার হিসেবে যে ব্যপারগুলা নোট করবেন,
– আপনি খুঁজছেন কাস্টমার, আপনি সেল করবেন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন।
– স্মার্টফোন ব্যবহার কারীর ৮৮ পার্সেন্ট হচ্ছে আপনার কাস্টোমার ।
– দিন দিন আমরা বড় ডিভাইস ছেড়ে ছোট বা স্মার্টফোনের দিকে আসছি।

তাহলে ফ্ল্যাট সেল না করে আপনার বিজনেস যদি হয়  অ্যান্ড্রয়েড এপ্লিকেশন সেলিং তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন সঠিক দিকে যাচ্ছেন কিনা! আপনার কাস্টমার বাড়ছে। আর বিজনেসে, কাস্টোমার = প্রফিট!
স্মার্টফোন ইউজাররাই আপনার কাস্টোমার।

মজার এবং ভালো ব্যপার হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ইন্ডাস্ট্রি ২০১২ সালে ছিলো ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। আর এটা প্রতি বছর ১০০% হারে গ্রো করছে। ভাবুন এখনকার অবস্থা! আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ওয়েব’টা একসময় পড়ে যাবে, সবকিছু মোবাইলে চলে আসবে।  কেননা আমরা ছোটোর দিকে যাচ্ছি। আর মোবাইলে আসলে তখন অ্যাপ্লিকেশনই সব কিছু।

বাংলাদেশে ইতিমধ্যে প্রচুর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যারা মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন তৈরী করছে। সেদিন সময় টিভির এক রিপোর্টে দেখলাম। ব্যসিস এ ১০০এরো বেশি এ্যাপ্লিশন ডেভেলপমেন্টকারী প্রতিষ্ঠান রেজিস্টার্ড আছে।
এছাড়াও রয়েছে অজস্র ফ্রিল্যান্স এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, যারা গুগল প্লে স্টোরের মত মার্কেটে এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করে।

গুগল প্লে স্টোর প্রায় দেড় শতাধিক দেশে আপনার এ্যাপ্লিকেশন পাব্লিশ করার জন্য স্কোপ দিবে। প্রায় দুই হাজারেরও অধিক ডিভাইসে আপনার এ্যাপ্লিকেশন চলবে। আমরা কত বড় মার্কেটে যাবো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মজার ব্যপার হচ্ছে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন মার্কেটের দুই পার্সেন্টও যদি আমরা আদায় করতে পারি, তা আমাদের বাংলাদেশের বাজেটেরো বেশি হবে!

কিভাবে শেখা যায় মোবাইল/অ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট?

মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টটা অনেকটা মার্শাল আর্টের মত। আপনাকে কৌশল শিখানো হবে। এপ্লাই (মারবেন) কিভাবে করবেন সেটা আপনার উপর। এ্যাপের এই মার্শাল আর্ট হচ্ছে জাভা, প্রোগ্রামিং, লগিক ডিজাইন নলেজ, আইডিয়া,গুই ডিজাইন।

যখন আপনি এগুলা জানবেন, এরপর কি কর‍্তে পারবেন এগুলা ব্যবহার করে সেটা আপনার উপর। সো, প্রথমেই এ্যাপ্লিকেশন কি দিয়ে বানানো যায় সেই কৌশল শিখে ফেলুন। এরপর, কি বানাবেন, সেটা ঠিক করেন।
সেটা করতে গিয়ে যখন আটকাবেন তখন হবে আসল শেখা। মানে প্র্যাক্টিক্যাল শিখা, থিওরীর দিন শেষ। আপনি যেই কৌশল শিখেছিলেন তার প্রয়োগ। পদে পদে শেখা। শেখার শেষ নেই।

খুব সম্ভবত, এগিয়ে যাওয়ার পথ এইটাই।

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...

Leave a Reply