কেন আমাদের অ্যাপগুলো সফল হয়না?

অনেকদিন পর লিখতে বসলাম লাইমের জন্য। অ্যান্ড্রয়েড লাইম এখন থেকে মোটামুটি এই ইউআরএল এ পাওয়া যাবে। যাদের প্রয়োজন তারা বুক মার্ক করে রাখতে পারেন।

সফল হয়না কেন আমাদের বানানো অ্যাপগুলো? হাতে গোনা কয়েকটা অ্যাপ আছে বাংলাদেশে যেগুলোর ডাউনলোড প্লে স্টোরে অনেক বেশি। বেশির ভাগ অ্যাপ ফাইট করতে থাকে ডাউনলোড এর জন্য। কিন্তু সম্ভব হয়না তাদের ভালো কিছু করা। কেন এমন হচ্ছে?
আমার সবচেয়ে সফল অ্যাপ যেটা সেটার ডাউনলোড হচ্ছে ১ লাখ ৯০ হাজার। এ ছাড়া অনেকগুলো অ্যাপ আছে এক লাখের উপর। আমাদের দেশের প্রাসফেক্টিভে এটা একটা ভালো নাম্বার। সত্যি কথা বলতে কি আমি যেই অ্যাপ ডেভেলপ করি এগুলো ছোট ছোট অ্যাপ, আহামরি কিছুনা। আমি নিজে এগুলো বানিয়ে সন্তুষ্ট না। তারপরও এগুলোর সাধারন মানুষের কাছে গ্রহন যোগ্যতা বেশ ভালো। এখন কথা হচ্ছে আমার বা আমার টিমের কি ভালো কিছু তৈরী করার ক্ষমতা নাই? অবশ্যই আছে। তবে একটা ভালো অ্যাপ বানাতে গেলে ২-৩ মাসও চলে যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ ভালো অ্যাপ ফ্লপ হয়ে পড়ে থাকে। এর পেছনে কারন খুঁজতে গিয়ে অনেকগুলো কারন পেয়েছি। কথা হচ্ছে এই সময় শ্রম, মেধা ব্যবহার করে যদি আমি প্রত্যাশিত ফলাফল না পাই সেটা আমার জন্য খুব বড় ক্ষতি। প্রফেশনাল লাইফে এই ক্ষতিগুলো ক্যারি করা প্রায় অসম্ভব।

 

successful apps

প্রশ্ন হচ্ছে কেন আমাদের অ্যাপগুলো সফল হচ্ছে না?

স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একটা মানুষ গড়ে ২৫০ এর মত ফোনের দিকে অ্যাটেনশন দেয়। এই অ্যাটেনশনের ৭৫ ভাগ সময় সে নষ্ট করে টপ ৪টা অ্যাপের পেছনে। ফেসবুক, গুগলের অ্যাপগুলো, গেইম, মেসেজ পাঠানোর অ্যাপগুলো এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলো উপরের স্থান দখল করে আছে। তাহলে বাকি রইলো ২৫ ভাগ সময়। এই ২৫ ভাগ সময়ের জন্য ফাইট করছে অনেক কোয়ালিফাইড অ্যাপ। এসব অ্যাপ আসছে সেরা সেরা ডেভেলপার, আইডিয়াটরের মাথা থেকে। তারা দিচ্ছে বিপুল ইনভেস্টমেন্ট, করছে মার্কেটিং, নিচ্ছে রিসার্স করে স্টেপ। এখন আমি যদি হঠাত করে অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও খুঁলে একটা জগত বিখ্যাত অ্যাপ বানিয়ে ফেলবো এটা আশা করা মুশকিল। এই সময়ের যুদ্ধে আমরা হেরে যাচ্ছি বলে আমাদের অ্যাপ সফল হচ্ছেনা।

আমার অ্যাপ কি আমি ব্যবহার করবো? এটা একটা বড় প্রশ্ন। আমি যখন কোন অ্যাপ বানাই বা চিন্তা করি, তখন প্রশ্ন করি আমি কি ব্যবহার করবো। উত্তর যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে আমি জন্য বানাচ্ছিনা। তাহলে আমি কাদের জন্য বানাচ্ছি? টার্গেটেড ইউজার বুঝতে না পারা অনেক বড় ব্যর্থতা। আমি কাদের জন্য অ্যাপ বানাবো এটা যদি আমি না জানি তাহলে আমার অ্যাপ সফল হবে কিভাবে। আচ্ছা, ধরা যাক আমি বুঝলাম আমি কাদের জন্য অ্যাপ বানাবো। আমি অ্যাপ বানাবো যারা ইন্টার মিডিয়েটে পড়ে তাদের জন্য। এই জায়গায় আমরা যে ব্যপারটা করতে চাইনা সেটা হচ্ছে ইউজেবিলিটি টেস্ট। যার জন্য অ্যাপ বানাচ্ছি আগে তাকে দিতে হবে অ্যাপটা। দেখতে হবে সে এটা পছন্দ করে কিনা। তবে আপনি যদি পরিচিত কাউকে দেন তখন বলবেন না যেন এটা আপনার অ্যাপ। যেকোন ভাবে টার্গেটেড ইউজারের কোন একজনকে দিন। দেখুন তার রিএকশন, পর্যবেক্ষন, মতামত। তার ফিডব্যাক থেকে বোঝা যাবে অনেক কিছু। টার্গেটেড ইউজার ধরতে পারা ও তাদের ফিডব্যাক না নেওয়া হচ্ছে অ্যাপ সফল না হওয়ার আরেকটি কারন।

অ্যানি ডু নামের একটা অ্যাপের নাম শুনেছেন হয়ত আপনারা। টু ডু অ্যাপ। অ্যাপটা দেখে আমার এত ভালো লেগেছিলো মনে হল এমন অ্যাপ আমরাও বানাতে পারি। বানিয়েও ফেল্লাম আমারা। কিন্তু অ্যানিডু এর স্টোরি যখন পড়তে গেলাম তখন দেখলাম সেই অ্যাপের মার্কেটিং এর জন্য মিলিয়ন ডলার এর ইনভেস্টমেন্ট ছিলো। আমি একটু থেমে গেলাম এই জায়গায়। আমি এই অ্যাপ স্টোরে দিলে কেউ তো জানবেও না যদি মার্কেটিং না করি। আমার যে বাজেট আছে তা দিয়ে আমি কি করতে পারবো? কতদুর যেতে পারবো। গেলে সেটা কি আমাকে কাংখিত আউটপুট বা রেজেনিউ দিবে? আমাদের দেশ থেকে ইনঅ্যাপ পার্চেজ বা পেইড অ্যাপের সুবিধা নেই। আমাদের দৌড় অ্যাডমব পর্যন্ত। অ্যাডমব কি এমন কোন নির্ভরযোগ্য সোর্স যার উপর ভরষা করে আমি ইনভেস্ট করবো? আর যদি আমি ইনভেস্ট করতেও চাই আমাকে ইনভেস্টমেন্ট কে দিবে? গুলো কেউ ভাবেন, কেউ ভাবেন না। তবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে কখনোই সফল অ্যাপ পয়েদা করা যাবেনা।

আমাদের মারাত্তক মার্কেটিং দুর্বলতা রয়েছে। ধরুন আম এমন একটা অ্যাপ বানিয়েছি, যেটা দিয়ে লাইফের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়। এখন আমার অ্যাপ যে লাইফের সমস্যার সমাধান করে এটা তো আমার ইউজারদের জানাতে হবে। আমার ইউজার কারা? তারা কই আছে? তাদের কাছে যেতে হলে আমাকে কি করতে হবে? তাদের পয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট কই? কি নিয়ে থাকতে পছন্দ করে তারা? এই ব্যপারগুলো অ্যানালাইসিস করে সেই জায়গায় আমার প্রোডাক্ট বা অ্যাপ নিয়ে উপস্থিত হতে হবে , জানাতে হবে তাদেরকে যে এই ব্যবহার না করলে তাদের লাইফ এর বড় কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে! মার্কেটিং ব্যপারটা হচ্ছে আর্ট। আপনাকে এই আর্টের পিকাসো বা জয়নাল আবেদিন হতে হবেনা, আপনি এই আর্টের সুমন হন। এখন প্রশ্ন আসবে সুমন কে? সুমন কে আমিও জানিনা। যে কোন সাধারন মানুষ যে নিজের চেষ্টায় স্ট্যাডি করে ভালো মার্কেটিং স্টাইল রপ্ত করেছে। বা আপনি সুমনকে চেনন। এখন তাকে আপনার কাজে লাগান। এমনভাবে লাগান যাতে সে এঞ্জয় করে, আপনিও ভালো কিছু পেতে পারেন।

একটা সফল প্রোডাক্টের অনেকগুলো ধাপ থাকে। ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, ইউজার ইউজার ইন্টারফেস, ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি এনসিউর করা, ফিডব্যাক নেওয়া, ফিডব্যাকের উপর ডিপেন্ড করে ফিক্স করা আবার, ইউজারদের সবার আগে রাখা, টাইমিং… … ইত্যাদি, ইত্যাদি। এই প্রোডাক্ট লাইফ সাইকেলগুলো আমরা অনুসরন করিনা ভালোভাবে। যেটা ফ্লপ প্রোডাক্ট এর জনক হওয়ার আরেকটা কারন। সত্যি কথা বলতে কি আমি আশে পাশে অনেকগুলো কোয়ালিটি অ্যাপ দেখেছি কিন্তু সেগুলা সেভাবে আদিপত্য বিস্তার করতে পারেনি বা পারছেনা। অথচ সেগুলা নিয়ে একটু একটু কাজ করে, কিছু ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে নামলে ভালো করা যেত। প্রশ্ন হচ্ছে ইনভেস্টমেন্ট দিবে কে? অনেকেই বলতে পারে সরকার দিবে বা ওই সে হ্যান ত্যান। আপনি যখন ছাত্র তখন এসব অ্যাপস ডেভেলপ করা আপনার জন্য অপশনাল কাজ। আপনি ছাত্র, তাই আপনার কাছে পর্যাপ্ত পেপার্স, সময় ও এনার্জি নাই তাই আপনি ইনভেস্টমেন্ট পেলেন না কাজ করতে পারলেন না। আবার যখন আপনি পাশ করে বের হলেন তখন আপনার ফ্যামেলির চেয়ে আপনার রিলেটিভদের আর প্রতিবেশিদের মাথাব্যথা বেশি আপনি জব করছেন না কেন। তখন পথে পথে ইনভেস্টমেন্ট খুঁজে একটা অ্যাপ দাড় করানো সহজ কাজ নয়। বলতে পারেন কয়েক বছর জব করে এসব কাজে নামা যায়। আমি বলি সেটা আরো কঠিন। জব করলে রেস্পন্সিবিলিটি চলে আসে, ফ্যামেলি ডিপেন্ডেন্সি চলে আসে, নিরাপত্তা খুঁজে সবাই। তখন নিরাপত্তার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ হয়না খুব বেশি মানুষের। তবে যারা পারে তারাই জয়ী। এত কিছু পার করতে পারিনা বলেই আমরা সফল অ্যাপ বা প্রোডাক্ট জন্ম দিতে পারিনা।

অনেক কিছু বলা হল। ভুল কিছু বলেছি মনে হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।
অনেক সফল অ্যাপের জন্ম দিবে এই লেখার পাঠকদের কেউ। তেমনটাই আশা করি।
ভালো থাকবেন। বেশি করে পানি খাবেন এই গরমে।
রেগুলার লেখা পেতে আমার ফেসবুকে যাক্ত থাকুন এখানে

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...