দুইজন অ্যাপ ডেভেলপার এর মধ্যে পার্থক্য তৈরী হয় যে জায়গায়

অ্যাপ ডেভেলপার , অ্যাপ ডেভেলপিং এই টার্মগুলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর পরিমানে শোনা যায়। কিছুদিন আগে ন্যাশনাল পর্যায়ে অ্যাপ ডেভেলপার তৈরীর কর্মসূচী গেল যেখানে ৫১০ জন ডেভেলপার তৈরীর প্রক্রিয়া ( সোর্সঃ ঢাকা ট্রিবিউন )  সম্পুর্ন হয়। গুগল ডেভেলপার্স ঢাকার  আয়োজনে ১০০০ ডেভেলপার তৈরীর প্রক্রিয়া ( সোর্সঃ প্রথম আলো )  চলছে।

 

এছাড়াও প্রচুর ডেভেলপার আছে যারা নিজেরা করছে, অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে শিখছে। অ্যান্ড্রয়েড লাইম’ও কাজ করে যাচ্ছে নতুনদের ও মিড লেভেল ডেভেলপারদের জন্য রিসোর্স দিয়ে যেতে। অ্যান্ড্রয়েড লাইম এর জাভা ও অ্যান্ড্রয়েড এর ভিডিও’গুলো বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে আর আর ফাউন্ডেশান ইনিস্টিটিউট, ফার্মগেট থেকে।

 

Where is the difference?

Where is the difference?

এখন সোজা প্রশ্ন, এত হাজার হাজার ডেভেলপার জন্মাচ্ছে প্রতিদিন। তাহলে আপনি ও আরেকজন ডেভেলপার এর মধ্যে পার্থক্য কি? আজকে ক্লাসে একটা টপিক দেখাচ্ছিলাম, স্টুডেন্টদের মধ্যে একজন বেশ এক্সাইটেড ফিল করতে থাকলো টপিক সম্পর্কে জেনেই। আমি তাকাতেই বল্ল, এটা দিয়ে এভাবে এই এই কাজ করা যাবে। আমি বেশ পুলোকিত বোধ করলাম। শুধু টপিকটা শেখা না সেটার প্রয়োগ নিয়েও ভাবনা যে কেউ ভাবছে সেটা আশাব্যঞ্জক। আসলে পার্থক্য এখানেই তৈরী হয়।

 

ধরুন, আপনি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট এর লিস্টভিউ, ডাটাবেজ নিয়ে কাজ করা, অ্যালার্ম নিয়ে কাজ করা এসব জানেন। আপনার বন্ধুও সেইম টপিক জানে বরং সে আপনার চেয়ে আরো বেশ কিছু জিনিস বেশি জানে! আপনি আপনার জানা ব্যবহার করে চমতকার একটা অ্যাপ বানিয়ে ফেল্লেন। আপনার ফ্রেন্ড যা জানে তা নিয়ে কাজ করতে পারে কিন্তু কি অ্যাপ বানাবে সেটাই খুঁজে পাচ্ছেনা! আসল পার্থক্য এখানেই তৈরী হবে। এখানে আমি বেশি পারাকে ইনিস্পায়ার্ড করছিনা এমন না! বেশি পারলে বেশি টুলস আছে আপনার হাতে। আপনি কি করবেন সেটা  আপনার চিন্তা ঠিক করে দিবে।

 

প্রোগ্রামিং জানা, প্রব্লেম সল্ভিং, অ্যান্ড্রয়েড এসডিকে জানা এগুলো হচ্ছে যন্ত্রপাতি! এগুলো ব্যবহার করে কি বানাতে পারেন সেটা আপনার ক্ষমতা। সেখানেই পার্থক্য ক্রিয়েট হবে। আমি ক্লাসে বলি, ” অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অনেকটা মার্শাল আর্টের মত। আমি আপনাদের কি কি ভাবে মারা যাবে সেগুলা শেখাবো। কাকে মারবেন, কিভাবে মারবেন সেটা আপনার উপর!” এখন আপনি যদি এই মার্শাল আর্ট অপ্রয়োজনীয় প্রতিশোধ নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন, আরেকজন কাউকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করে, তাহলে তার আর আপনার পার্থক্য চিন্তায়, কাজে! অ্যাপ ডেভেলপমেন্টেও সেইম।

 

অনেকই ভাবেন, আমি এগুলা এগুলা জানলে আমি উস্তাদ! আসলে কিন্তু তা না। আসল উস্তাদ সে, যে এগুলা ব্যবহার করে ভালো কিছু করে দেখায়। অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অ্যাপ নিয়ে চিন্তা করা শেখানোও উচিত। আমি মাঝে মাঝে বলি, এবং আজকের এই লেখাও সেই জন্য।
শুধু বিজনেস না, একটা ক্রিয়েটিভ কিছু নিয়ে আসা, একটা অ্যাপ দিয়ে নতুন কিছু মানুষকে ব্যবহার করতে শেখানো, মানুষের জীবন যাত্রা সহজ করার জন্য কিছু তৈরী করা। রিস্ক নেয়া, বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা। এগুলো দিয়েই ভালো কিছু সম্ভব হবে। এগুলো দিয়েই পার্থক্য তৈরী হবে। আমরা চিন্তা করি একটা জব হলেই সেইফ। জব করা খারাপ বলিনা, তবে জব মেন্টালিটি থেকে বেরিয়ে এসে কিছু করার চিন্তা করতে বলি। সবাই বের হতে পারেনা, যারা পারে তারাই নতুন কিছু করে, দুনিয়া কাঁপানো কিছু করে। এগুলো নিয়ে বলতে যেয়ে আমার এক স্টুডেন্ট বলল, ভাইয়া জব করলে তো সেইফ। কথা ঠিক। তবে এর জন্য একটা কোট আছে। জাহাজ সবসময় তীরে সেইফ। তবে জাহাজ তীরে থাকার জন্য তৈরী করা হয়নি! আর হ্যাঁ, একজন অ্যাপ ডেভেলপার এর সফলতা টাকা নয়, যখন তার বানানো অ্যাপ ১০ লাখ মানুষ ব্যবহার করে সন্তুষ্টি জানাবে, সেটাই সফলতা। সেটাই আনন্দের কিংবা ভালো লাগার সেইফটিনেস।

 

 

শেষ করবো, বলতে শুরু করলে বলতেই থাকি! যারা জব করবেন এবার তাদের জন্য বলি। অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে ইন্টারভিউ’তে গেলে কেমন প্রশ্ন পাবেন সেগুলা নিয়ে আর্টিকেল আসবে খুব দ্রুত। আর অ্যাড্রেয়েড লাইমে জাভা ও অ্যান্ড্রয়েড রিলেটেড জব পোস্ট করা চিন্তা চলছে। যাতে এখান থেকে আপনারা ভালো কিছু পান। আপনি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট জানেন। আমিও জানি। একটা ইন্টারভিউতে গেলাম আমি আর আপনি। আমি গেলাম অনেক জানা নিয়ে খালি হাতে। আপনি গেলেন জানাগুলো দিয়ে আপনার ডেভেলপ করা দুইটা অ্যাপ নিয়ে। পার্থক্যটা এখানেই তৈরী হবে।

 
ভালো থাকবেন। আমার লেখাগুলো নিয়মিত পেতে , ফেসবুকে আমাকে পাবেন এখানে।

আরো পড়ুনঃ আমাদের দেশে মার্ক জুকারবার্গ, স্টিভ জবস জন্মায় না কেন?

 

 

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...

Leave a Reply