অ্যান্ড্রয়েড ব্যসিক টিউটোরিয়াল ২ঃ ADT ফাইল স্ট্রার্কচার পরিচিতি

সালাম সবাইকে।

অগ্রিম বৈশাখী শুভেচ্ছা।

আজকে আমরা গুরুত্বপুর্ন একটা জিনিস শিখবো। আমরা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকশন বানানোর আগে অবশ্যই জানতে হবে যে জায়গায় অ্যাাপ্লিকেশন বানাবো সেই সফটওয়ারের কোন অংশের কি কাজ।

তো, আমি যেটা করলাম স্কিনশট নিয়ে ফটোশপে মেনু/অপশনগুলাতে নাম্বার বসিয়ে দিলাম। সেইগুলা ধরে ধরে এখন বলবো কোনটার কি কাজ। শুরুতেই ইমেজ দেখে নেই। এক স্কিন শটে কাজ হচ্ছিলো না, তাই দুইটা নিলাম।

 

android workspace file structure

 

1 – আমার এ্যাপ্লিকেশন ফোল্ডার এটা। এখানেই সব ফাইল থাকবে।

2 – এটা হচ্ছে সোর্স। এখানে সব জাভা ফাইল থাকে আমার প্যাকেজের ভিতরে।

3 – এটা হচ্ছে প্যাকেজ। যেই প্যাকেজে জাভা ফাইলগুলা থাকে।

4 –  MainActivity.java ফাইল হচ্ছে আমার জাভা ফাইল যেখানে আমরা ইনিশিয়াল কোড লিখবো। সাধারনত এ্যাপ্লিকেশনে আমরা যতগুলা পেজ দেখি ততগুলা এক্টিভিটি থাকে। তখন সেখানে যতগুলা পেজে ততগুলা জাভা ফাইল তথা এক্টিভিটি ক্রিয়েট করতে হয়। এগুলার আবার একটা করে ভিজুয়াল ডিজাইনের জন্য এক্সএমএল ( XML ) ফাইল থাকে। যেটা পরের ইমেজে দেখানো হবে।

5 – এটা হচ্ছে জেন বা জেনেরেটেড ফাইল। এখানে আমাদের কোন কাজ নেই। আমরা কোড রান করালে এগুলা জেনেরেট হবে।

6 –  এটা হচ্ছে R ফাইল। আমরা যখন এক্সএমএল ( XML ) এ কোন ডিজানের কোন কম্পনেন্ট( যেমন বাটন, টেক্সট, ইমেজ ) কোড করবো, সেগুলার একটা রেফারেন্স জেনেরেট হয়ে এই ফাইলে জমা হয়। আমরা জাভা দিয়ে এই ফাইল R এক্সস করবো সেই ডিজাইনের কম্পোনেন্টটা জাভাতে পেতে এবং সেটা নিয়ে কাজ করতে।

7 – এটা এসেট ফোল্ডার। এখানে আমরা যেকোন কিছু রাখতে পারি। ফোনগ্যাপ নিয়ে কাজ করলে এখানে আমরা ফাইলগুলা রাখবো। কোন লেখার কাস্টম ফন্ট ব্যবহার করতে চাইলে সেই ফন্ট আমরা এই ফোল্ডারে রাখতে পারবো।

8 – বিন। বাইনারি ফোল্ডার। এখানে আমাদের .apk  ফাইল জেনেরেটেড হয়ে জমা হয়। যেটা আমরা ফোনে নিয়ে ইনিস্টিল করে ব্যবহার করতে পারবো।

9 – আমাদের .apk  ফাইল।

10 –  লিবস। এখানে আমরা জাভার এক্সটার্নাল লাইব্রেরি রাখবো, এবং কোডে ব্যবহার করবো।

11 – রেস। মানে রিসোর্স। এখানে অনেক রিসোর্স আছে। যেগুলা আমাদের এ্যাপ্লিকেশনের কাজে লাগে। যেমন আমরা যদি কোন অডিও ফাইল এ্যাপে রাখতে চাই সেটা এখানে রাখতে পারবো। আমাদের এক্সএমএল ফাইলও এখানেই থাকবে।

12 – এটা হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েদ মেনিফেস্ট  ফাইল। এটা জঘন্য রকমের গুরুত্বপুর্ন ফাইল। এটাতে আমারা অনেক কাজ করতে পারি। পার্মিশান দেয়া, এক্টিভিটি ডিক্লেয়ার। আচ্ছা, এটা নিয়ে আমি আলাদা একটা লেখাই লিখবো। সো, ধৈর্য ধরেন।

13 – এখান থেকে আমরা নিউ যে কোন কিছু ক্রিয়েট করতে পারি।

14 – এটা হচ্ছে SDK Manager । এখান থেকে আমরা এসডিকে ম্যানেজ করবো। যেমন কোন API ইনিস্টল/আনইনিস্টল। সিস্টেম ইমেজ ইনিস্টল/আনইনিস্টিল।

15 – AVD ( Android Virtual Device ) Manager.  এখানে আমরা আমাদের অ্যাপ্লিকেশন বানাতে বানাতে রান করে টেস্ট করবো। এটা একটা ভার্চুয়াল অ্যান্ড্রয়েড ফোন।

16 – এটা রান বাটন। রান বাটনে ক্লিক করলে কোড কম্পাইল হবে।

17 – জাভা ফাইল।18 – এক্সএমএল ফাইল ট্যাবে খোলা।

19 – যে এক্সএমএল ফাইল ওপেন আছে সেটার গ্রাফিকাল ভিউ। মানে এ্যাপে সেটা কেমন দেখাবে। যেখানে আমরা কম্পনেন্টগুলা ড্র্যাগ এন্ড ড্রপও করতে পারি।

20 – এটা হচ্ছে কোনসোল। আমরা এ্যাপ্লিকশন রান দিলে সেটা কিভাবে কাজ করছে তা এখানে বলে দিবে। যেমন, ভার্চুয়াল ডিভাইস অন হচ্ছে, আমার বানানো এ্যাপ্পলিকেশন ইনিস্টিল হচ্ছে, এ্যাপ্লিকেশন ওপেন হচ্ছে, ইত্যাদি।

21 – LogCat । ভয়ানক গুরুত্বপুর্ন একটা জিনিস। আপনার অ্যাপ্লিকশন যদি এরর দেয়। ক্র্যাশ করে। কোন লাইনে ভুল, কি ভুল তা লগক্যাটে দেখাবে। এ্যাপ্লিকেশন সঠিক ভাবে কাজ করলে কি কি কাজ হচ্ছে কোন মেথড কল হচ্ছে, কি লোড হচ্ছে এসব ইনফরম্যাশনও দেখাবে।

 

চলেন এবার ইমেজ দুই’তে যাই। এখানে res ফোল্ডারটা এক্সপান্ড করে বাকি নাম্বারিইং করলাম। চলেন দেখি এখানে কি কি আছে,

introduction to android workspace

22 , 23 – এটা হচ্ছে লেয়াউট ফোল্ডার। আগেই বলেছি। একটা অ্যাপ্লিকেশনে প্রতিটা ভিউ/পেজ এর জন্য সাধারনত একটা এক্টিভিটি বা জাভা ফাইল থাকে। সেই জাভা ফাইলগুলার আবার একটা ভিউ বা আমরা যা দেখি তা থাকে। সেগুলাই এই লেআউটে আছে। এখান থেকেই আমরা ডিজাইন করবো।
24 – মেনু ফোল্ডার। আপনার ফোনের ইমেজ গ্যালারির উপরের ডান কোনায় দেখবেন একটা শেয়ার বাটন আছে। সেখানে ক্লিক করলে কিছু মেনু বের হয়। সেগুলার ডিজাইন এখানেই করবো আমরা। 25, 26, 27 এর কাজ এখন বলবো না। পরে দেখাবো।

28 – এখানে ক্লিক করে নতুন অ্যাপ্লিকেশন ক্রিয়েট করবো আমরা।

29 – কোড রান করা যাবে এখান থেকে।

30 – উইন্ডো। আমাদের এই এনভায়রনমেন্টে যা যা দেখা যাচ্ছে সবগুলাই এক একটা উইন্ড। এ ছাড়াও অনেকগুলা আছে। সেগুলা আমরা এখান থেকে এক্সেস করতে পারবো।

 

আর হ্যাঁ, যারা এই ফাইল স্ট্রার্কচার ভালো করে বুঝবেন, তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও’তেও কাজ করতে অসুবিধা হবেনা।

 

আজ এই পর্যন্তই। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করুন। আপনার প্রশ্ন দেখে হয়ত পড়তে আসা কেউ কিছু শিখবে। কিংবা আমিও নতুন কিছু হয়ত শিখতে পারবো।

গরমের পানি খাবেন বেশি করে।

আরো পড়ুনঃ ক্যারিয়ার হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...

Leave a Reply