আমার অ্যান্ড্রয়েড ট্রেইনার হয়ে উঠা

স্বপ্নগুলো বড় অদ্ভুত। দূরে থাকতে ছুঁতে ইচ্ছে করে, কাছে এলে নতুনের খোঁজে ছোটে মন। সত্যি কথা বলতে কি অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার হওয়ার অল্প সময় পরই ট্রেইনার হওয়ার সুযোগ পাই, তবে সেখানে অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো হয়নি।  আমার স্বপ্ন হচ্ছে ভালো ডেভেলপার হওয়া। কিন্তু একটা সময় পর ট্রেইনিংটা এত পছন্দ করে ফেলি আমি নিজেও অবাক হয়ে যাই। তাইতো আবার ট্রেইনিং এর সাথে যুক্ত হয়ে যাই।

এক ভাই এর স্ট্যাটাস দেখে ন্যাশনাল অ্যাপস ডেভেলপার ও ট্রেইনার তৈরীর ট্রেনিং এর ট্রেইনার হতে সিভি ড্রপ করি এবং ট্রেইনার হিসেবে জয়েন করি। সত্যি কথা বলতে কি শুরুর দিকে প্রচুর নার্ভাস ছিলাম। কেউ প্রশ্ন করলে একটু ঘাবড়ে যেতাম। মজার ব্যপার হল, পরবর্তীতে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতাম।  ১০ মিনিটের মত কথা বললেই গলা শুকিয়ে যেত। আর এখন মোটামুটি ঘন্টা পার হলে গেলেও গলা ঠিক থাকে। আমার মনে হয় সাউন্ডও বেড়েছে। হাহা। একদিন উঠলো জ্বর। খুব বেশি ছিলো না। সেদিন আবার আমার লেকচার দিতে হবে। কো-ট্রেইনার আশরাফ ভাইকে বললাম আমি লেকচার দিয়েই চলে যাবো, ভালো লাগছেনা। জ্বর নিয়ে টানা ১ ঘন্টা লেকচার দিলাম। মজার ব্যপার হচ্ছে, ১ঘন্টা পর মনে হচ্ছে জ্বর প্রায় চলে গেছে। তাও বাসায় চলে আসলাম।
যেটা বেশি সমস্যা হত, সেটা হচ্ছে আমি খুব চঞ্চল হাঁসি খুশি মানুষ। গালের কোন ব্যালেন্স নাই। ওখানে আমি ট্রেইনার মানুষ, নিজেকে কন্ট্রোলে রাখা কষ্টের ব্যপার ছিলো। সব সময় চেষ্টা করতাম  মুরুব্বি ভাব নিয়ে থাকতে যদিও মাঝে মাঝেই মুখ ফস্কে ওটা সেটা বেরিয়ে যেত। তবে দুই ভার্সিটিতেই ছেলে পেলে গুলা ভালো হওয়ায় খুব একটা সমস্যা হয়নি।

 

তবে নিজে শিখেছি প্রচুর জিনিস। অনেক বিষয় ছিলো যেগুলা আগে হয়ত সামান্য জানতাম, পড়াতে গিয়ে গভীরে যেতে হয়েছে, নিজের হাতে করতে হয়েছে, বোঝানোর জন্য বুঝতে হয়েছে। এই ব্যপারগুলো ছিলো পজেটিভস। নিজের অনেক উন্নতি হয়েছে। এই জন্যই হয়ত টিচাররা এত জ্ঞানী হয়। পড়াতে পড়াতে নিজেরাই জানে প্রচুর, চলে যায় গভীরে।

ট্রেইনিং এর সময়টায় অন্য কাজ খুব কম করেছি। দিনের বেলায় চেষ্টা করতাম পড়াশুনা করতে। রাতে এসে অন্য কাজগুলা করার, কিছু একটা রিসার্চ করা, প্ল্যান করা, বানানোর এটেম্পট নেয়া। রাতে ঘুমিয়ে পরের দিন আবার ক্লাসের টপিক নিয়ে পড়াশুনা করা।

 

নর্থসাউথ ভার্সিটিরতে সেকেন্ড ক্লাসে লেকচার দিচ্ছিলাম

নর্থসাউথ ভার্সিটিরতে সেকেন্ড ক্লাসে লেকচার দিচ্ছিলাম

আশরাফ ভাই , সাদ ছিলো আমার কোট্রেইনার। শেষের দিকে মমিন আসে। সবচেয়ে বেশি সময় ছিলাম আশরাফ ভাইয়ের সাথে। উনাকে দেখতে গম্ভীর লাগে তবে মজার মানুষ। অল্প সময়ে আমরা ভালো বন্ধুর মত হয়ে গেছি। উনি আমার চেয়ে অনেক এক্সপেরিয়েন্সড। উনার কাছেও অনেক কিছু শিখেছি। অফিসের গল্প, কর্পোরেট গল্প, অফিসের বসের গল্প, বিভিন্ন কোম্পানীর গল্প অনেক কিছু। ব্র্যাক ভার্সিটিতে প্রতিদিন ক্লাস শেষে চটপটি /ফুচকা খাওয়া ছিলো বড় আনন্দের ব্যপার। ওখানের চটপটি/ফুচকা আমার দেখা/খাওয়া বেস্ট! কেউ ওদিকটায় গেলে মানিকগঞ্জ চটপটি/ফুচকা খাওয়া রেকমেন্ডেন্ট। নর্থসাউথের শর্মা ছিলো বেস্ট। চা’টাও বেশ ভালো।

 

ব্র্যাক ভার্সিটির ট্রেইনিদের একাংশ

ব্র্যাক ভার্সিটির ট্রেইনিদের একাংশ

 

জানুয়ারী থেকে মে। দীর্ঘপথ চলা শেষ হল। আসলে আমি যতটা বোরিং হবে ভেবেছি ব্যপারটা শতগুন এক্সাইটিং ছিলো। এর জন্য ব্র্যাক / নর্থসাউথের ট্রেইনীদের ক্রেডিট দিতেই হবে। সামনে হয়ত অনেকেই ট্রেইন করাবো, তবে এদের সব সময় মনে থাকবে। এদের কেউ কোনদিন বড় কিছু করে ফেললে সেদিন গর্বসহকারে বলবো, ” আমি একদিন এর ট্রেইনার ছিলাম। ” তখনি হয়ত আমার ট্রেইনার হয়ে উঠা সফল হবে।

ট্রেইনিং এর উপর নির্মিত ভিডিও ও আমার শর্ট ইন্টারভিউ দেখুনঃ

Mosharrof Rubel

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানেঃ মোশাররফ রুবেল

You may also like...

Leave a Reply